রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তরুণ দম্পতি কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও জহুরা অন্তি (২৭)। বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় তাদের এই অকাল মৃত্যুতে রাজবাড়ীজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে জানাজা শেষে শহরের নতুন বাজার কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন সৌম্য ও জহুরা। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটি টেনে তুললে ভেতর থেকে এই দম্পতির নিথর দেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় রাজবাড়ী শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও শত শত সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
নিহত সৌম্য রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের একমাত্র ছেলে এবং জহুরা অন্তি একই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে ও একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানাজায় বিলাপ করতে করতে সৌম্যের বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ বলেন, নিজের সন্তানের মতো করে সৌম্যকে বড় করেছি। ওর পড়াশোনা, চাকরি, বিয়ে— সবই আমার হাত ধরে হয়েছে। আজ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, এক বছরের মাথায় দুই সন্তানের লাশ সামনে নিয়ে আমাকে দাঁড়াতে হচ্ছে। তিনি উপস্থিত সবার কাছে এই দম্পতির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
দৌলতদিয়া ঘাটের এই ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ২৩ জন এবং আজ আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।










