ইরান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারণ ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করেছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানি বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এমনকি ওই পাইলটকে ধরতে বা হত্যা করতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে থাকা ইরান সম্প্রতি দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এর মধ্যে একটি এফ-১৫ ইরানের আকাশে গুলি করে নামানো হয়। অন্যদিকে একটি এ-১০ কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়, যার পাইলট ইজেক্ট করেছিলেন বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য পাঠানো দুটি হেলিকপ্টারও ইরানের গুলির মুখে পড়ে, যদিও তারা নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে বসে পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট নিচ্ছেন। এর আগে তিনি ইরানকে স্টোন এইজে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য বৈঠকের উদ্যোগ থাকলেও ইরান জানিয়েছে, তারা এখন আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়।
এদিকে, সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইরানে নতুন করে বিমান হামলা, পারমাণবিক স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণ এবং অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিখোঁজ মার্কিন পাইলটের বিষয়টি যুদ্ধের একটি সংবেদনশীল মোড় তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারে এবং সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।


















