গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, গত ৪৭ বছরের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিবিড় আলোচনা, যেখানে ইরান আন্তরিকতার সঙ্গে অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক সংলাপ চালালেও ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের ঠিক আগে মার্কিন পক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়, বারবার মত পরিবর্তন করে এবং অবরোধের হুমকি দেয়।
আরাগচি আরও বলেন, সদিচ্ছার জবাবে সদিচ্ছা এবং শত্রুতার জবাবে শত্রুতা সৃষ্টি হয়—কিন্তু এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই সুরে মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের কঠোর নীতি পরিহার করে এবং ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তিনি আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের, বিশেষ করে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এদিকে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সামরিক কমান্ডও এই অবরোধ কার্যকর করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপ ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী সব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যদিও অন্যান্য দেশের বন্দরের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল অব্যাহত থাকতে পারে।
এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ বলেন, এমন অবরোধ ইরানের জনগণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি জানান, ইরান আলোচনায় গঠনমূলক প্রস্তাব দিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলেন—যদি তারা সংঘাতে যায়, ইরানও প্রস্তুত; আর যদি যুক্তির পথে আসে, তবে ইরানও ইতিবাচক সাড়া দেবে।
















