ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে আজ জমজমাট এক লড়াই। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পার্ক দে প্রিন্সেসে মুখোমুখি হচ্ছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বায়ার্ন মিউনিখ। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত সাফল্য পাওয়া দুই জায়ান্ট এবার লড়বে ইউরোপের মঞ্চে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আজ রাত ১টায় লড়াইয়ের মঞ্চে নামবে দুদল। কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় পিএসজি। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা রুখে দিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বায়ার্ন মিউনিখ।
লিগ ওয়ানে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে পিএসজি। লুইস এনরিকের দল টানা চার ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে, যেখানে চেলসি ও লিভারপুলের বিপক্ষে করেছে ১২ গোল। টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাসও গড়েছে ফরাসি ক্লাবটি। এবার তাদের সামনে আরেকটি মাইলফলক–চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০তম জয়। এই কীর্তি গড়তে পারলে ফরাসি ক্লাব হিসেবে প্রথম হবে পিএসজি। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিযোগিতায় তাদের প্রথম জয়টিও এসেছিল বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষেই। ঘরোয়া লিগে শিরোপার খুব কাছাকাছি পিএসজি। চার ম্যাচ বাকি থাকতে শীর্ষে থেকে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে তারা।
অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ ইতোমধ্যেই বুন্দেসলিগার শিরোপা নিশ্চিত করেছে। তবে ইউরোপে সাম্প্রতিক সাফল্য তেমন উজ্জ্বল নয় তাদের। ২০২০ সালের পর আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি বাভারিয়ানদের। এরপর কয়েকবার কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। তবু সাম্প্রতিক ফর্মে আত্মবিশ্বাসী বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা সাত ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে এসেছে তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুই লেগেই জয়ের স্বাদ পেয়েছে জার্মান জায়ান্টরা।
দুই দলের সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে বায়ার্ন। গত নভেম্বরে লিগ পর্বে পার্ক দে প্রিন্সেসেই পিএসজিকে ২-১ গোলে হারায় তারা। শেষ ছয় দেখায় পাঁচটিতেই জয় তাদের। দলীয় দিক থেকেও কিছু পরিবর্তন রয়েছে। পিএসজির দেজিরে দুয়ে ও নুনো মেন্দেস চোট কাটিয়ে ফিরেছেন। তবে ভিতিনিয়ার খেলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে থাকছেন না। ইনজুরির কারণে সার্জ গ্নাব্রি, টম বিশফ ও স্টিভেন উলরাইখকে পাচ্ছে না বায়ার্ন। তবে জশুয়া কিমিখ ও দায়ো উপামেকানো ফিরছেন দলে। আর হ্যারি কেইন থাকছেন আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে।
সব মিলিয়ে দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
















