চট্রগ্রামে অবৈধভাবে বিক্রি করার সময় জব্দ হওয়া ৬০ হাজার লিটার লো সালফার মেরিণ ফুয়েল নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিসি। সোমবার রাতে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপারের বাংলাবাজার ঘাট সংলগ্ন ওহাব সী সার্ভিস নামের একটি বাংকারিং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঘাট থেকে তিনটি ভাউচার ভর্তি এই চোরাই তেল উদ্ধার করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
সূত্র জানায়, ওহাব সী সার্ভিসের ঘাটে নোঙোর করা তাদের একটি ট্যাংকারে ভাউচার থেকে তেল আনলোড করার সময় সেখানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় ভাউচারের সঙ্গে থাকা স্টাফরা জানায় সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে তেলগুলো সংগ্রহ করে ওহাব সী সার্ভিসের কাছে বিক্রি করতে এসেছেন তারা। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কেউ। এসময় ভাউচার স্টাফকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ বিপিসির কর্মকর্তাদের ডেকে তেল ভর্তি ভাউচার তিনটি পদ্মা অয়েল কোম্পানীর জিম্মায় দেওয়া হয়।
বিপিসি সুত্র জানায়, মেরিণ ফুয়েল শুধু বিদেশি জাহাজে বিক্রয়যোগ্য। কাস্টমারের সঙ্গে চুক্তি চুরান্ত হলে বিপিসির বিপনন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করে সরবরাহ করার নিয়ম। কিন্তু বাংকারিং প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই এই নিয়ম মানে না। বিপিসির লাইসেন্স নিয়ে চোরাই তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করে তারা। ওহাব সী সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চোরাই মেরিণ ফুয়েল বিক্রি করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিপিসির অপারেশন বিভাগের একজন জিএম জানান, জব্দ করা তেলের সঠিক কাগজপত্র দেখানোর জন্য দুই দিন সময় দেয়া হয়েছিল।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত কেউ কাগজ নিয়ে আসেনি। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে তেলগুলো নিলামে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আসেনি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে চিঠি এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পদ্মা অয়েল কোম্পানির অপারেশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড় থেকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তেল ভর্তি ভাউচারগুলো জব্দ করে বিপিসির মাধ্যমে পদ্মা অয়েলের জিম্মায় রেখেছে। যতটুকু শুনেছি ভাটিয়ারি জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে তেলগুলো আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ভিাটিয়ারি থেকে সরাসরি তেল বিক্রি করার সুযোগ নেই। যে কোন জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হলে বিপিসির মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওহাব সী সার্ভিসের মালিক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বিষয়টি তিনি জেনে জানাবেন। পড়ে বাংকার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ওহাব সী সার্ভিসের আরেক মালিক আব্দুল মান্নান ফোন করে জানান, বাংলাবাজার ঘাট থেকে তেলগুলো জব্দ করা হয়েছে। ঘাটটি তাদের নিজস্ব কোন ঘাট নয়। মূলত ওই ঘাটে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়। সাপ্লাইয়াররা সীতাকুণ্ডুর জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পসহ বিভিন্ন সোর্স থেকে তেল সংগ্রহ করে ওই ঘাটে নিয়ে আসে।
সেখান থেকে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা দাম দর করে কিনে নেয়। জব্দ করা তেল ওহাব সী সার্ভিসের প্রতিনিধিরাসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কেনার ব্যাপারে দরদাম করছিল। এই সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। একটি কাগজ না থাকায় বিক্রি করতে আসা একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করে। পরে তেল নিয়ে যায় তারা। এখানে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওহাব সী সার্ভিসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

















