Thursday , 16 April 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কৃষি
  5. ক্যাম্পাস
  6. ক্রিকেট
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জীবনধারা
  10. তথ্য-প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাস
  13. ফটো গ্যালারী
  14. ফুটবল
  15. বাংলাদেশ অর্থনীতি

বিশ্বকাপে লজ্জার রেকর্ড: যে অতীত ভুলতে চায় ৫টি দেশ

প্রতিবেদক
admin
April 16, 2026 1:12 pm

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই রোমাঞ্চ, ইতিহাস আর অবিস্মরণীয় অনেকগুলো মুহূর্ত। তবে প্রতিটি আসরে যেমন চ্যাম্পিয়নদের গৌরবগাথা লেখা হয়, তেমনি কিছু দল থেকে যায় ভিন্ন কারণে- ভারি পরাজয়, ভেঙে পড়া পারফরম্যান্স আর হতাশার ইতিহাস নিয়ে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন কিছু দল রয়েছে, যারা নিজেদের নাম লিখিয়েছে সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সের তালিকায়।

এখানে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স করা কয়েকটি দলের বিবরণ দেওয়া হলো
বলিভিয়া (১৯৫০)

বলিভিয়া জাতীয় ফুটবল দলের গল্প শুরু হয় ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে, যা ছিল ইতিহাসের অন্যতম অদ্ভুত টুর্নামেন্ট। সেই আসরে গ্রুপ বিন্যাস ছিল অসম এবং নকআউটের বদলে ছিল ফাইনাল গ্রুপ পদ্ধতি।ফ্রান্স সরে দাঁড়ানোয় বলিভিয়া পড়ে মাত্র দুই দলের একটি গ্রুপে। তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয় এক ম্যাচেই- চ্যাম্পিয়ন হতে যাওয়া উরুগুয়ে জাতীয় দলের বিপক্ষে।

১৯৫০ সালের ২ জুলাই সেই ম্যাচে উরুগুয়ে ৮-০ ব্যবধানে বলিভিয়াকে বিধ্বস্ত করে। এই হার কার্যত বলিভিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই শেষ করে দেয় এবং এটি টুর্নামেন্টের অন্যতম একতরফা ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।

গ্রিস (১৯৯৪)

চার দশকেরও বেশি সময় পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে গ্রিস জাতীয় ফুটবল দলের, যা তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে হারের ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয়, যেখানে গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

এরপর নাইজেরিয়া ও বুলগেরিয়ার কাছেও হারে গ্রিস। পুরো গ্রুপপর্বে তারা ১০টি গোল হজম করে; কিন্তু একটি গোলও করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার পর কোচ আলকেতাস প্যানাগৌলিয়াস পদত্যাগ করেন।

হাইতি (১৯৭৪)
১৯৭৪ বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া হাইতি জাতীয় ফুটবল দলের কিছুটা প্রতিশ্রুতি দেখালেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। ইতালি, পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে তারা শেষ করে ১২ গোল হজম করে। এটি দেখিয়ে দেয়, সে সময় উদীয়মান দলগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী দলগুলোর ব্যবধান কতটা বড় ছিল।

জায়ার (১৯৭৪)

একই আসরে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্সগুলোর একটি করে জায়ার জাতীয় ফুটবল দল (বর্তমান কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র)। তারা তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল সেবার, হজম করে ১৪টি গোল এবং একটি গোলও করতে পারেনি। যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৯-০ ব্যবধানে হারটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় পরাজয় হিসেবে আজও স্মরণীয়।এল সালভাদর (১৯৮২)

১৯৮২ বিশ্বকাপে এল সালভাদর জাতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচেই হাঙ্গেরির কাছে ১০-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়গুলোর একটি।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বেলজিয়াম ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তুলনামূলক ভালো খেললেও, শেষ পর্যন্ত তারা ১টি গোল করে ১৩টি গোল হজম করে বিদায় নেয়।এই দলগুলো ভিন্ন সময় ও প্রেক্ষাপট থেকে এলেও তাদের গল্পে একটি মিল রয়েছে- বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতা, কৌশল ও মানের ঘাটতি বড়ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

তাদের ব্যর্থতা শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপ যে কতটা কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক, তা এসব দলই সবচেয়ে ভালোভাবে প্রমাণ করে গেছে।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক