ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ কারো উপকারে আসে না। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদার করাই বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং বহিরাগত শক্তির সুযোগ নেওয়া ঠেকানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিচার মন্ত্রণালয়ে এক তদারকি সফরে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। খবর প্রেসটিভির।
পেজেশকিয়ান বলেন, সহমর্মিতা, সততা এবং সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এই পরিস্থিতি অতিক্রম করতে পারি এবং দেশের মর্যাদা ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারি। শত্রুর প্রতি অবিশ্বাস এবং পারস্পরিক যোগাযোগে সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ কারো উপকারে আসে না। হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে থাকলেও উত্তেজনা কমাতে আমাদের সব ধরনের যুক্তিসঙ্গত ও কূটনৈতিক পথ ব্যবহার করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পাল্টা জবাবে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র অতিক্রম করা মানেই পথের শেষ নয়। বরং এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ‘জিহাদে আকরবের’ সূচনা। ধৈর্য, সহনশীলতা, সহযোগিতা এবং দেশের পুনর্গঠন ও সমস্যা সমাধানে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সকল নাগরিককে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এই পর্যায়ে যুদ্ধকালীন সময়ের চেয়েও বেশি মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দিকনির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, বিপ্লবের মহান ও শহীদ নেতার সমর্থন ও নির্দেশনা শুরু থেকেই সরকারের জন্য এক দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই দিকনির্দেশনার আলোকে গড়ে ওঠা সমন্বয়ই আজ কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে সম্ভব করে তুলেছে।

















