দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহরে বিদ্যুৎ ও পানি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে অঞ্চলে। খবর প্রেস টিভির।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের দেবেল শহরের বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে শহরের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই হামলায় স্থানীয় বাসিন্দারা মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু বিদ্যুৎ-পানি নয়, শহরের ঘরবাড়ি, সড়ক ও জলপাই বাগানেও ব্যাপক ধ্বংসজজ্ঞ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দেবেল শহরটি এর আগেও একাধিকবার ইসরায়েলি অভিযানের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি এক ইসরায়েলি সেনার যিশুর একটি মূর্তি ভাঙার ভিডিও প্রকাশ পেলে তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।
গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক স্থাপনা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ কাজে খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন প্রকৌশল সরঞ্জাম আনা হয়েছে এবং ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিটি এলাকায় কত ভবন ধ্বংস করা হচ্ছে, তার হিসাবও রাখছে বলে জানা গেছে।
গত মাসে ইসরায়েলের সামরিকবিষয়ক মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, সীমান্তবর্তী লেবাননের গ্রামগুলোর সব বাড়ি গাজায় ব্যবহৃত মডেল অনুসারে ধ্বংস করা হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের পর লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখবে ইসরায়েল।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন নিহত, ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

















