মিরপুরের ধীর-অনিশ্চিত উইকেট, যেখানে প্রতিটি বলই যেন একেকটি ধাঁধা। সেই ধাঁধার সমাধান খুঁজে নিয়েই এগিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। আর সেই সমাধানের সূত্র নাকি লুকিয়ে ছিল একজন বাংলাদেশি পেসারের হাতেই।
প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর, দলের অলরাউন্ডার নাথান স্মিথ জানিয়েছেন, শুরুতেই শরিফুল ইসলামের করা স্পেলই তাদের ব্যাটিং কৌশল সাজাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটের আচরণ বোঝার জন্য শরিফুলের লাইন-লেন্থকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছে দলটি।
সোমবারের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমে স্মিথ বলেন, ‘প্রথম ইনিংস থেকেই ব্যাটারদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছিল। শরিফুলের প্রথম বলটাই নিচু হয়ে প্রায় হেনরি নিকোলসকে বোল্ড করে ফেলেছিল। তখনই বুঝতে পারি, সে যে লেন্থে বল করছে, সেটাই এই উইকেটে কার্যকর। আমরা চেষ্টা করেছি সেই লেন্থেই খেলতে এবং স্টাম্পকে খেলার মধ্যে রাখতে।’
শরিফুল অবশ্য নিজের দায়িত্বও দারুণভাবে পালন করেছেন। ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট নিয়ে শুরুতেই চাপ তৈরি করেন তিনি। তার বোলিংয়ে পাওয়া অনিয়মিত বাউন্স পুরো ইনিংস জুড়েই সতর্ক রাখে কিউই ব্যাটারদের।
স্মিথ স্বীকার করেন, এই ধরনের উইকেটে মানিয়ে নেওয়াটাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। ‘পুরো ম্যাচজুড়েই কিছুটা ভ্যারিয়েবল বাউন্স ছিল। পরে আমাদের বোলারদের স্লোয়ার বলও উইকেটে থেমে যাচ্ছিল। তাই দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি এবং সেটাই কাজে দিয়েছে,’ বলেছেন তিনি।
পূর্ণ শক্তির দল না নিয়েও এই সফরে ভালো করার পেছনে দলের গভীরতাকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন স্মিথ। তার মতে, এমন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং ভবিষ্যতের জন্য দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করতে পারাটা দলের জন্য ইতিবাচক বলেও মনে করেন তিনি। এখন তাদের লক্ষ্য দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জে নামবে মিরপুরেই।


















